mohsin ৬ অগাস্ট ২০২৫ , ৪:৫৪ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
একজন ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে পূজনীয় চরিত্র, অন্যজন আধুনিক সময়ের রাজার মর্যাদা পাওয়া তারকা। আর এখন, সেই দুজনেরই ছায়া মাড়িয়ে আলোচনার কেন্দ্রে শুবমান গিল।
এজবাস্টনে অনন্য কীর্তি
এজবাস্টনে ২৬৯ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেই গিল নিজের নাম বসিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। তার এমন অর্জন নিয়ে মন্তব্য করেছেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল অ্যাথারটন। তিনি বলেন, শচীন ও কোহলির মতো মহাতারকার জায়গা পূরণ করছেন গিল—এবং এমন কিছু অর্জন করেছেন, যা তারা পারেননি।
ইংল্যান্ডে ডাবল সেঞ্চুরির নজির
ইংল্যান্ডে ভারতের কেউ কখনো টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেননি, শচীন টেন্ডুলকার ১৯৩ ও কোহলি ১৪৯ রানে থেমেছিলেন। গিল সেই দৃষ্টান্ত ভেঙে ২৬৯ রানের ইনিংস খেলেন এবং সবাইকে চমকে দেন।
গাভাস্কারের রেকর্ডও ছাপিয়ে
ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে এক সিরিজে সবচেয়ে বেশি রান ছিল সুনীল গাভাস্কারের, ৭৩২। গিল করেছেন ৭৫৪। পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবে এক সিরিজে ৪টি সেঞ্চুরির কীর্তিতে ডন ব্র্যাডম্যান ও গাভাস্কারের সঙ্গে নিজের নাম বসিয়েছেন।
অভিষেকেই বাজিমাত
এই সিরিজই ছিল গিলের অধিনায়ক হিসেবে প্রথম। অথচ সেই অভিষেক সিরিজেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও সিরিজ ড্র করে দেশকে ফিরিয়ে এনেছেন সম্মানের সঙ্গে।

পরিসংখ্যানই প্রমাণ
৩৭ টেস্টে গিলের রান ২৬৪৭, গড় ৪১.৩৫, সেঞ্চুরি ৯টি।
শচীন এই পর্যায়ে ২৪৮১ রান, গড় ৫২.৭৮, সেঞ্চুরি ৮টি।
কোহলি ২৭৯৪ রান, গড় ৪৫.০৬, সেঞ্চুরি ১১টি।
ওয়ানডেতে গিল আরও দুর্দান্ত—৫৫ ম্যাচে ২৭৭৫ রান, গড় ৫৯.০৪, সেঞ্চুরি ৮টি।
কোহলি ৫৫ ম্যাচে ১৯৫৬ রান, গড় ৪৩.৪৬, সেঞ্চুরি ৫টি।
শচীন ১৫২০ রান, গড় ৩২.৩৪, কোনো সেঞ্চুরি নেই।
কোথাও এগিয়ে, কোথাও সমানতালে
সব মিলিয়ে বলা যায়, গিলের ক্যারিয়ারের শুরুটাই হয়েছে অসাধারণভাবে। পরিসংখ্যানের বিচারেও শচীন বা কোহলির চেয়ে পিছিয়ে নেই—কিছু জায়গায় তো স্পষ্টভাবে এগিয়ে।
গিলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল?
অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকে এমন কীর্তি, গড়, সেঞ্চুরি ও সিরিজ রক্ষা—সব মিলিয়ে ভারতের নতুন টেস্ট কাণ্ডারির যাত্রা হয়েছে ঐতিহাসিকভাবে। ক্রিকেটবিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে—এই গতি ধরে রেখে তিনি কতদূর এগোতে পারেন।