mohsin ১৯ মে ২০২৬ , ১০:০২ এএম প্রিন্ট সংস্করণ

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় খুলেছিল। তখন জনগণ প্রত্যাশা করেছিল—দুর্নীতি, রাজনৈতিক সহিংসতা ও দমননীতি শেষ হবে; নির্বাচনী ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ হবে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পান নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুস। কিন্তু এক বছরের বেশি সময় পর, বিশ্লেষকরা বলছেন—তার শাসনামলে সংস্কারের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও বিদেশি এজেন্ডাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
| সময় | সিদ্ধান্ত | প্রেক্ষাপট | প্রভাব |
|---|---|---|---|
| আগস্ট ২০২৪ | গ্রামীণ ব্যাংকের খাজনা মওকুফ | নিজের প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকের কর মওকুফ | সরাসরি আর্থিক সুবিধা, স্বার্থসংঘাতের অভিযোগ |
| অক্টোবর ২০২৪ | বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন | পূর্বে আটকে থাকা প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ | ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড শক্তিশালী |
| সেপ্টেম্বর ২০২৪–মার্চ ২০২৫ | বিদেশ সফরের ধারা | বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদান | রাষ্ট্রীয় খরচ নিয়ে প্রশ্ন, ব্যক্তিগত ইমেজ উন্নয়ন |
| সময় | ঘটনা | প্রেক্ষাপট | প্রভাব |
|---|---|---|---|
| নভেম্বর ২০২৪ | জাতিসংঘের বিশেষ দফতর প্রতিষ্ঠা | পশ্চিমা এজেন্ডা বাস্তবায়ন | আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রভাব বৃদ্ধি |
| ডিসেম্বর ২০২৪ | বিতর্কিত এনজিও অনুমোদন | মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠন সরকারি সহায়তা পায় | জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সংঘাত |
| জানুয়ারি ২০২৫ | ব্র্যাকের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি | নীতিগত ছাড় ও প্রজেক্ট অনুমোদন | ক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি |
| প্রত্যাশা | বাস্তবতা | প্রভাব |
|---|---|---|
| সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা | আইনে মৌলিক পরিবর্তন হয়নি | জনগণের আস্থা হ্রাস |
| জুলাই শহীদদের দাবি বাস্তবায়ন | কোনো রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা হয়নি | অভ্যুত্থানের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল |
| দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসন | রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি | স্বাধীন সংস্কারের ব্যর্থতা |
ড. ইউনুস বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ চালালেও কোনো কার্যকর সংস্কার-চুক্তি হয়নি। বরং তিনি “সবার বন্ধু, কারও সংস্কারক নন”—এমন অবস্থানে আটকে পড়েন।
ড. ইউনুস অভ্যুত্থানের সর্বাধিক সুবিধাভোগী হলেও, তিনি সেই আস্থার মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ব্যক্তিগত অর্জন ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং তার মেয়াদের মূল বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন প্রয়োজন—তার কাছ থেকে স্পষ্ট জবাবদিহি দাবি করা।